ভাবছিলাম পূজার ক'টা দিন বাঙালিয়ানা নিয়ে কাটাব। যেই ভাবা সেই কাজ, আমরা আর আমাদের রাম পিয়ারী নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। হায়দ্রাবাদ শহরে তো আর বাঙ্গালী কম নয়। তো তৃতীয়া থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু। বঙ্গীয় সাংস্কৃতিক সঙ্ঘ, হায়দ্রাবাদ বাঙ্গালী সমিতি, হায়দ্রাবাদ কালীবাড়ি সায়বারাবাদ বাঙ্গালী সমিতি ইত্যাদি ঘুরেই চলছি। আমাদের একটা নিজস্ব গ্রুপ আছে, Sylhetis in Hyderabad। আমরা দেখা করছি, ভোগ খাচ্ছি। অনাবিল আনন্দ যাকে বলে। পূজা মন্ডপের আশেপাশে বসে বাঙ্গালীদের টুকরো টুকরো কথাগুলো কিন্তু বেশ লাগে। কখনও স্বামী স্ত্রী বা মা মেয়ে বা মা ছেলের কথোপকথন। বাংলা তো নয় এ তো আস্ত শশী থরুর ছুঁড়ে মারছে একে অপরের দিকে। অনেক শব্দ বোধগম্য হলেও স্বল্পশিক্ষার দৌলতে বেশিরভাগই মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছিল। কি রকম যেন অসহায় বোধ করলাম। ছেলে মোবাইল এ ব্যস্ত আর গিন্নী একটু অন্যমনস্ক। এই সুযোগে অনলাইন অভিধান খুলে বসলাম। হায়দ্রাবাদ পূজার একটা বৈশিষ্ঠ আছে। এখানে থিম পূজা নেই। অনেকটা গ্রামদেশের পূজার মত। একটি নির্দিষ্ট পরিসীমায় সমস্ত দোকানপাট, বইয়ের দোকান, খাদ্যের মেলা মানে একেবারে কর্পোরেট ম্যানেজমেন্ট। কিরকম যেন হীনমন্যতায় ভুগে বইয়ের দোকানে গেলাম। হাদা ভোঁদা, নন্টে ফন্টে দেখছিলাম। এমন সময় দুটো পরিবার দেখলাম একসাথেই ঢুকলেন। আমি হতচকিত হয়ে ওদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলাম। ছোট্ট ফুটফুটে একটি মেয়ে তাঁর মাকে স্পষ্ট ভাবে বলল, "Mom, can I have some books?" আমি কিন্তু খুশী ই হলাম। কেন জানিনা ছোট্ট ছেলে মেয়েরা বই কিনলে বেশ লাগে। নিজের অজান্তেই আমার চোখ মায়ের দিকেই গেল। একটা চাপা উত্তেজনা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। উনি ততটাই সপ্রতিভ ভাবে উত্তর দিলেন, "Baby, you know na, you can't read bengali? Why waste money?" আবার কেমন জানি মিইয়ে গেলাম।
ভাবলাম একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখি। বেশ লাগছিল। বিভোর হয়েই শুনছিলাম। হঠাৎই কানে কি যেন আছড়ে পড়ল। বুঝলাম আচ্ছা মঞ্চ থেকে এংকর এর শব্দ। উনি বাংলাটা ঠিক ম্যানেজ করতে পারছিলেন না। উনি যদিও ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু, হিন্দী, তেলেগু, ইংরেজি ও দুর্ভাগা বাংলা মিলেমিশে কর্ণকুহরে যেটা প্রবেশ করছিল সেটা পূজার সময় নিতে পারছিলাম না। যাইহোক আয়োজক রা কিন্তু ঠিকই বুঝে গেছেন যে উপস্থিত বাঙ্গালী প্রজন্ম এই বস্তাপচা পল্লীগীতি, বাউল ঠিক খাচ্ছে না। যথারীতি কর্পোরেট প্ল্যান বি হাজির হলেন ইংলিশ আর হিন্দী গানের ডালা নিয়ে। গানকে সাপোর্ট করার জন্য কোন মেশিনের অভাব ছিল না। আমরা তানপুরা, হারমোনিয়াম আর তবলা চিনতাম। কিন্তু মশাই, আমি হলেম প্রাচীন। ওদের মেশিন ফিট করা দেখে খুবই গর্ব হচ্ছিল। বাব্বা, ঘন্টা দুয়েকের যুদ্ধের পর সব ঠিক হল। রকেট সায়েন্স বোধহয় একেই বলে। যথাসময়ে শিল্পী এলেন, ড্রামসেট, ইলেকট্রিক গিটার উনাকে স্বাগত জানাতে কোন কার্পণ্য করছিল না। আমি কিরকম যেন একটু অসুস্থ ফিল করছিলাম। একটু অধৈর্য্য ও বোধহয়। এইবার তাহলে গান শুনব। শিল্পী মাইক হাতে নিয়ে কোমর না বেকিয়ে শরীরটাকে যতটুকু সম্ভব পেছনে নিয়ে তারস্বরে চিৎকার করে বললেন, "Hyderabad....Do you want to rock?"। প্রায় পরেই যাচ্ছিলাম। তীব্র শব্দ আর ততোধিক আলো। আমি ঘর্মাক্ত অসুস্থ শরীরটাকে টানতে টানতে শুনতে পেলাম, গিন্নী বলছেন, "কিতা গো, কই যাও?"
ভাবলাম একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখি। বেশ লাগছিল। বিভোর হয়েই শুনছিলাম। হঠাৎই কানে কি যেন আছড়ে পড়ল। বুঝলাম আচ্ছা মঞ্চ থেকে এংকর এর শব্দ। উনি বাংলাটা ঠিক ম্যানেজ করতে পারছিলেন না। উনি যদিও ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু, হিন্দী, তেলেগু, ইংরেজি ও দুর্ভাগা বাংলা মিলেমিশে কর্ণকুহরে যেটা প্রবেশ করছিল সেটা পূজার সময় নিতে পারছিলাম না। যাইহোক আয়োজক রা কিন্তু ঠিকই বুঝে গেছেন যে উপস্থিত বাঙ্গালী প্রজন্ম এই বস্তাপচা পল্লীগীতি, বাউল ঠিক খাচ্ছে না। যথারীতি কর্পোরেট প্ল্যান বি হাজির হলেন ইংলিশ আর হিন্দী গানের ডালা নিয়ে। গানকে সাপোর্ট করার জন্য কোন মেশিনের অভাব ছিল না। আমরা তানপুরা, হারমোনিয়াম আর তবলা চিনতাম। কিন্তু মশাই, আমি হলেম প্রাচীন। ওদের মেশিন ফিট করা দেখে খুবই গর্ব হচ্ছিল। বাব্বা, ঘন্টা দুয়েকের যুদ্ধের পর সব ঠিক হল। রকেট সায়েন্স বোধহয় একেই বলে। যথাসময়ে শিল্পী এলেন, ড্রামসেট, ইলেকট্রিক গিটার উনাকে স্বাগত জানাতে কোন কার্পণ্য করছিল না। আমি কিরকম যেন একটু অসুস্থ ফিল করছিলাম। একটু অধৈর্য্য ও বোধহয়। এইবার তাহলে গান শুনব। শিল্পী মাইক হাতে নিয়ে কোমর না বেকিয়ে শরীরটাকে যতটুকু সম্ভব পেছনে নিয়ে তারস্বরে চিৎকার করে বললেন, "Hyderabad....Do you want to rock?"। প্রায় পরেই যাচ্ছিলাম। তীব্র শব্দ আর ততোধিক আলো। আমি ঘর্মাক্ত অসুস্থ শরীরটাকে টানতে টানতে শুনতে পেলাম, গিন্নী বলছেন, "কিতা গো, কই যাও?"
No comments:
Post a Comment