Sunday, 16 September 2018

প্রাণের শহর ধর্মনগর

পাইলট ল্যান্ডিং এর ঘোষণা করার পর থেকেই তপুর মনটা কেমন যেন হয়ে গেল। আজ থেকে প্রায় 20 বছর আগে শহর ছেড়েছিল। তখন ধর্মনগর একটি মহকুমা শহর ছিল মাত্র। আকাশ থেকে তার প্রিয় শহরকে দেখছিল। বিশ্বাস হচ্ছিল না তাঁর নিজের চোখকে। কাজের সুবাদে পুরো দেশ চষে বেরিয়েছে তপু। অনেক শহর দেখেছে। তবু ধর্মনগর তাঁর নিজের শহর, প্রিয় শহর।
এই তো সেদিনের কথা, নাইট সুপার বাসে চেপে একদিন হাতে নিয়ে গুয়াহাটি যাচ্ছিল  দিল্লীর সম্পর্ক ক্রান্তি ট্রেন ধরতে। সেই দিন গুলো ভুলা যায়? বৃষ্টি হলে বাস নেই, পাহাড় লাইন এ মিটার গেজ ট্রেন বন্ধ। উফ!! কি যন্ত্রনা। এমনকি বাড়ী থেকে মোটর স্ট্যান্ড যেতেও ভরসা রিকশা। বর্ষার দিনে তো আস্ত ত্রিপুরাই বিচ্ছিন্ন বাকি দেশ থেকে।
দিল্লী বসেই তপু শুনেছিল ব্রড গেজ ট্রেন চালু হয়ে গেছে ত্রিপুরায়। কিন্তু জলজ্যান্ত এয়ারপোর্ট?
এইসব আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতেই একটা ছোট্ট ঝাকুনি দিয়ে হায়দ্রাবাদ ধর্মনগর ইন্ডিগো ডাইরেক্ট ফ্লাইটটা ল্যান্ড করল।
তপুর তখনো বিশ্বাস হচ্ছিল না নিজের চোখকে। সুদৃশ্য এয়ারপোর্ট আর আধুনিক লাউঞ্জকে বায়ে রেখে নিজের ট্রলি ব্যাগটা নিয়ে তপু ভাবছিল এখন একবার রাজুকে ফোন করা যাক। এখানে তো আর ওলা উবের পাব না।
রাজুর সাথে কথা বলতে বলতে তপু ভাবলো একটা কফি তো মন্দ হয় না। এয়ারপোর্টের বাইরে এসেই ক্যাফে কফি ডের একটা কফি অর্ডার করে তপু এদিক ওদিক দেখছিল তখনই রাজু কলব্যাক করল। বলল শোন, আজ তাজ ত্রিপুরায় ভি ভি আই পি মুভমেন্ট আছে। তো ট্রাফিক প্রায় স্তব্ধ। আমি লোকেশন শেয়ার করছি, তুই এয়ারপোর্ট ওয়াই ফাই দিয়ে উবের বুক করে চলে আয়। ঘন্টা খানেকের মধ্যে পৌঁছে যাবি। তপুর ততক্ষনে ভিমরি খাওয়ার উপক্রম। ও AIIMS এর ব্যাপারে শুনেছিল। কিন্তু পাঁচতারা হোটেল? তাও তাজ ত্রিপুরা??? ধর্মনগরে? CCD র টাকা মিটিয়ে কোনমতে লোকটাকে জিজ্ঞেস করল, দাদা আজ কি কোন VIP এসেছেন ধর্মনগরে...
.
.
তপু ছোটবেলা একাই স্কুলে যেত। একদিন জ্বর আসায় মা সাথে ছিলেন। তখন রাঘনা তে BSF ক্যাম্প ছিল। ওই ক্যাম্পের এক অফিসার কে এয়ারলিফট করা হয়েছিল অসুস্থতার জন্য। সেই দিন তপু আজও ভুলে নি। BBI স্কুলফিল্ডে সেই লাল রঙের হেলিকপ্টার দেখার জন্য পুরো শহর হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। তপুও মার হাত ছেড়ে দৌড়ে গেছিল 'উড়ন্ত ফড়িং' দেখতে...
.
.
4 লেন রোড, সুদৃশ্য অট্টালিকা, মাল্টিপ্লেক্স গুলো  তপুকে যেন কিছু বলছিল। ড্রাইভার কিছু বলছিল, দেখে বিহারী মনে হল। স্পষ্ট হিন্দীতে বলল আপকা লোকেশন মে পহচনে মে থোড়া টাইম লাগেগা। তপু ততক্ষনে বুঝে গেছে যে IT পার্ক উদ্ঘাটনের জন্য মোদী আর ট্রাম্পের ধর্মনগর সফর আজ দেরী করিয়ে ছাড়বে। আর মেঘ না চাইতেই বৃষ্টির মতো লক্ষ্মণ (উবের ড্রাইভার) ততক্ষনে তপুকে জানিয়ে দিয়েছে যে ও ইচ্ছে করলেই রোড ওয়াইফাই বা উবের ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারে। তপু ল্যাপটপ খুলে কিছু জরুরি মেল করে নিল। লক্ষ্মনের গাড়ি যত শহরে ঢুকছে তত তপু বুঝতে পারছে কেন এয়ারপোর্ট টা কুমারঘাটে বানানো হয়েছে। চামটিলা তে AIIMS কে ডানদিকে রেখে গাড়ি বাঁদিকে মোড় নিল। লক্ষ্মণ আবার জিজ্ঞেস করল স্যার কোনদিকে যাব। IIT হয়ে গেলে একটু ট্রাফিক কম থাকতে পারে। ও বলে যাচ্ছিল IIT ফ্লাইওভার দিয়ে গেলে নাকি প্রায় 5 কিমি রাস্তা কম হবে। কোনমতে ঘাড় নেড়ে তপু সম্মতি দিল।
তপু মন্ত্রমুগ্ধের মতো নিজের প্রিয় পদ্মপুরকে দেখছিল আর মনে মনে ভাবছিল একটা ভিডিও কল করে মৃদুলের সাথে কথা বললে কেমন হয়। মৃদুল প্রায়ই USA র বর্ননা দেয় ফেবুতে। এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ একটা বিশাল অট্টালিকার পাশে গাড়ি দাঁড়ালো। গেটের সামনে স্টিল দিয়ে লেখা Sunrise Apartment, Padmapur. রাজু গেটেই দাঁড়িয়ে ছিল। তপু গগনচুম্বী অট্টালিকার ফাঁক ফোকর দিয়ে নিজের বাড়িটা খোঁজার চেষ্টা করছিল। ওখানেই তো ছিল...

Note :: এটি একটি রম্য রচনা মাত্র। প্রিয় বন্ধু Vibgyor Colors এর লেখা পড়ে অনুপ্রেরণা নিয়ে একটু চেষ্টা করলাম। ভুল ত্রুটির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

No comments:

Post a Comment